Thursday, August 25, 2022

ডিপ্রেশন কী?

 ডিপ্রেশন কী?

উত্তরঃ তুমি এবং তোমার স্রষ্টার মধ্যকার দুরত্বের নামই হল ডিপ্রেশন।
খাদিজা(রা:) খুব ধনী ঘরের মেয়ে ছিলেন। বিলাসিতার মধ্যেই বড় হওয়াটাই স্বাভাবিক। নবিজী(স:) ত্রর ইসলাম প্রচারের কারণে অন্যান্য গোত্র যখন কুরাইশদের অবরোধ দিল তখন নবিজী আর খাদিজা (রা:)এর গোত্রের শিশুদের আড়াইবছর তীব্র কষ্টে থাকতে হয়েছিলো।
এমনকী ক্ষুধার তাড়নায় গাছের পাতা পর্যন্ত খেয়েছিলেন।
হযরত বিলাল (রা) ছিলেন হাবশী ক্রীতদাস। ইসলাম কবুলের অপরাধে তাকে মরুভূমির রোদে ফেলে রাখা হতো, তার গায়ের চর্বি গলে যেতো।তারপরও তার মুখে লেগে থাকতো প্রশান্তি, রোদের তেজ তাঁর কালিমার তেজের কাছে পরাজিত হতো।
ইমাম ইবনু তাইমিয়্যা তাঁর জীবনে আট বছর জেল খেটেছেন। জেলেই মরেছেন। অথচ তিনি কী বলেছিলেন, জানেন?
বলেছিলেন, দুনিয়াতেও একটা জান্নাত আছে, আমি আমার হৃদয়ে সে জান্নাতের খোঁজ পেয়েছি।
গান শোনা, মুভি দেখা, মোটিভেশনাল বই পড়া বা মানুষের সাথে আড্ডা দিয়েই যদি ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি মিলত তবে গায়ক লিনকিন পার্ক আত্মহত্যা করলেন কেন? কিংবা অভিনেতা সুশান্ত শিং সুইসাইড করলেন কেন?মোটিভেশন গুরু ডেল কার্নেগি আত্মহত্যা করেছিলেন কেন?
আল্লাহ্ তাআলা, ইসলাম, ইমান আর ডিপ্রেশন এক অন্তরে একসঙ্গে থাকতে পারে না। যদি আপনার মনে বিন্দুমাত্র ডিপ্রেশন থাকে, তার মানে আপনার হৃদয়ে আল্লাহ্ নাই, বরং ওখানে শয়তান বাসা বেঁধেছে।
যারা ডিপ্রেশনে পড়ে বা আত্মহত্যা করে, মোটা দাগে দেখবেন, এরা অজ্ঞেয়বাদী নাহয় অবিশ্বাসী। কোনো মুসলিম যদি ডিপ্রেশনের স্বীকার হন, তাহলে আপনার ঈমান নিয়ে ভেবে দেখার সময় এসেছে।
এবার অনেকেই তেড়ে এসে বলবেন, আমার পরিস্থিতি আপনি বুঝবেন না, আমার ফ্যামিলি প্রবলেম, মানি প্রবলেম, স্বামী প্রবলেম.....আরে ভাই থামেন তো!!
কোন পরিস্থিতির গল্প শোনান আপনি? বউ ভালো না? হযরত লূত (আ) এর স্ত্রীও ভালো ছিলো না। হযরত আছিয়া (আ) এর স্বামী ছিলেন কে জানেন? ফেরাউন।
ফেরাউনকে ঈশ্বর না মানার অপরাধে তাঁকে টুকরো করে কেটে গরম তেলের মধ্যে ডোবানো হয়েছিল৷
আরও শুনবেন? চেষ্টা করেও কিছু হচ্ছে না তাই ডিপ্রেশন?
হযরত নুহ (আ) প্রায় হাজার বছর দাওয়াত দিয়ে আশি জনকে দাওয়াত কবুল করাতে পেরেছিলেন।
আপনজন কষ্ট দিয়েছে? অপবাদ দিয়েছে?
ইউসুফ (আ) এর ভাইয়েরা তাকে কুয়ার মধ্যে ফেলে দিয়ে চলে গেলো। ব্যবসায়ীর বৌ জুলেখার সাথে ব্যভিচার না করায় উল্টো অপবাদ দিয়ে সাত বছরের জেল দেওয়া হলো!!
এরপরও আপনি আমাকে কোন পরিস্থিতির গল্প শোনাবেন?
চলুন দেখি কুরআন কী বলছে-
হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যখন বার্ধক্যে উপনীত, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একদল ফেরেশতা এসে তখন তাঁকে এক জ্ঞানী পুত্রের সুসংবাদ শোনাল। বিস্ময়ভরা কণ্ঠে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন- আমাকে তো বার্ধক্য পেয়ে বসেছে, এরপরও তোমরা আমাকে এ সুসংবাদ দিচ্ছ?! কীসের ভিত্তিতে তোমরা এ সুসংবাদ দিচ্ছ? ফেরেশতারা বলল, আমরা তো সত্য কথাই বলছি। আপনাকে সত্য সুসংবাদই দিচ্ছি। বার্ধক্য আপনাকে স্পর্শ করেছে করুক, এ বৃদ্ধ বয়সেই আপনার সন্তান হবে। আপনি নিরাশদের দলে যাবেন না। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাদের কথার জবাবে বললেন, পথভ্রষ্টরা ছাড়া আর কে আপন প্রতিপালকের রহমত থেকে নিরাশ হতে পারে? (সূরা হিজর, ৫৩-৫৬ নং আয়াত দ্রষ্টব্য)
যারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় তাদেরকে বলা হলো পথভ্রষ্ট!! এরপরও আপনি আমাকে ডিপ্রেশনের গল্প শোনাবেন?
আরেকটা গল্প শুনে যান-
হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের সর্বাধিক প্রিয় সন্তান ছিলেন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম। কিন্তু তাঁর ভাইয়েরা বাবার এই আদরকে সহজে মেনে নিতে পারেনি তাই কৌশলে তাঁকে একদিন বাবার কাছ থেকে নিয়ে গিয়ে কূপে ফেলে দিল।
আল্লাহর অসীম কুদরতে কূপ থেকে উঠে এসে একদিন তিনি মিশরের ধনভাণ্ডারের দায়িত্বশীল হলেন। আর যে ভাইয়েরা তাঁকে নিয়ে চক্রান্ত করেছিল, দুর্ভিক্ষের শিকার হয়ে তারা খাবার আনতে হাজির হলো তাঁর কাছে। এরপর এক কৌশলে তিনি তাঁর সহোদর বিনইয়ামীনকে নিজের সঙ্গে রেখে দিলেন।
দুই ছেলে হারিয়ে বাবা হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম অন্য ছেলেদের বললেন, (তরজমা) ‘হে আমার ছেলেরা! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সন্ধান করো। তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চিত জেনো, আল্লাহর রহমত থেকে তো কাফের ছাড়া অন্য কেউ নিরাশ হতে পারে না।’ {সূরা ইউসুফ (১২) : ৮৭}
শেষ লাইনটা আবার পড়েন তো!!
শুধু তাই না আল্লাহর রহমত থেকে ডিপ্রেসড হয়ে যাওয়া কবিরা গুনাহ।
এই নিন হাদিস-
বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন, ‘হাবরু হাযিহিল উম্মাহ’-এই উম্মতের বিদ্বান ব্যক্তি। তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় কবিরা গোনাহ হচ্ছে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে র্শিক করা, আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া আর আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে পড়া'৷
(মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ১৯৭০১)
গান বাজনা বা মুভি, বই আপনাকে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি দিতে পারবে না। ডিপ্রেশনের একমাত্র চিকিৎসা হলো আল্লাহর দিকে ফেরত আসা। আপনার শয়তান যখন আপনাকে বলছে তোর অনেক কষ্ট, তোর চেয়ে কষ্টে কেউ নাই, তখন আল্লাহ্ তাআলা বলছেন-
"কষ্টের সঙ্গেই তো স্বস্তি আছে। অবশ্যই কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি আছে৷" [সূরা আলাম নাশরাহ (৯৪) : ৫-৬]
শেষকথা: অভিনেতা সুশান্ত শিং রাজপুত সুইসাইড করেছেন অথচ উনার ছিচোড়ে মুভিটা ছিলো মোটিভেশনাল, সুইসাইড বিরোধী একটা মুভি। মুভি তাঁকে ডিপ্রেশন থেকে ফেরাতে পারলো না।লাস্ট ছয়মাস উনি চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন, লাভ হলো না। শরীরের রোগের চিকিৎসা আছে, মনের রোগের ভ্যাকসিন চিকিৎসা বিজ্ঞানে নাই।
এখন পর্যন্ত যার মোটিভেশনাল বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে বলে দাবি করা হয়, সেই ডেল কার্নেগি শেষ জীবনে আত্মহত্যা করেছেন। মোটিভেশনের ফেরিওয়ালা নিজের বেঁচে থাকার এতটুকু মোটিভেশন জোগাড় করতে পারলেন না!!
লিনকিন পার্ক। যে ব্যান্ড এর গান শুনে আমাদের রাত্রি ভোর হয়, প্রবল উৎসাহ পাই, অনেকে যার গানে বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজেন, সেই ব্যান্ড এর নামকরা শিল্পী নিজের গানে নিজের বাঁচার উপাদান খুঁজে পেলেন না। শেষপর্যন্ত আত্মহত্যা করলেন।
চার্লি চ্যাপলিন ।
সর্বকালের সেরা কমেডিয়ান। পৃথিবীর নানান প্রান্তের মানুষকে হাসানো মানুষটির বোকা হাসির আড়ালে কী ব্যথা লুকিয়ে ছিলো, কেউ জানলো না। নিজেকে শেষ করে দিলেন।
তাহলে সমাধান কী?
জেনে রেখ, আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অন্তরের সত্যিকারের প্রশান্তি লাভ করা যায়।[১৩:২৮]
আল্লাহ্ তাআলার দিকে ফিরে আসুন।
কুরআনের দিকে ফিরে আসুন। যে অন্তরে রাহমানুর রাহীমের ভালোবাসা থাকে, যে হৃদয়ে আল্লাহ্ থাকেন, সে হৃদয়ে ডিপ্রেশন থাকতে পারে না।
কোনভাবেই না।
(সংগৃহীত )

মুমিন ও মুনাফিক সাহাবী এবং তাদের যাচাইয়ের মানদন্ডঃ পর্ব-০২

মুমিন ও মুনাফিক সাহাবী এবং তাদের যাচাইয়ের মানদন্ডঃ পর্ব-০২
-------------------------------------------------------
মুনাফিক সাহাবী: যাদের বাহিরে ছিলো লেবাসী বা লোক দেখানো ঈমান, আর অন্তরে ছিল কুফর।
***************************************
১)পবিত্র কোরআনঃ
★ ০২, সুরা বাকারা : আয়াত ০৮ থেকে ১৩
----------------------------------------------------------
০৮ - মানুষের মধ্যে কিছু লোক আছে, যারা বলে: আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিবসের প্রতি; অথচ তারা মুমিন নয়।
০৯ - তারা (মনে করে) ধোঁকাবাজি করছে আল্লাহর সাথে এবং মুমিনদের সাথেও। অথচ তারা যে নিজেদের ছাড়া আর কাউকেও ধোঁকা দিচ্ছে না, একথাটা তারা উপলব্ধি করে না।
১০ - তাদের কলবসমুহে রয়েছে (সন্দেহ ও মুনাফিকীর) রোগ। তাই, আল্লাহ তাদের (এ) রোগকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব, কারণ তারা (ঈমানের দাবীতে) মিথ্যা বলে।
১১ - আর যখন তাদের বলা হয়: দেশে ফাসাদ (অশান্তি) সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে: আমরাই তো কেবল ইসলাহ (সংশোধন) করে চলেছি।
১২ - সতর্ক থাকো, এরাই আসল ফাসাদ সৃষ্টিকারী
১৩ - যখন তাদের বলা হয়: তোমরা (সেভাবে) ঈমান আনো, অন্য লোকেরা যে রকম (নিষ্ঠার সাথে) ঈমান এনেছে। তখন তারা বলে: আমরা কি (সে রকম) ঈমান আনবো, যে রকম ঈমান এনেছে বোকা লোকেরা? আসলে তারা নিজেরাই যে বোকা তা তারা জানে না।
পর্যালোচনা:
**********
এরা ইসলাম গ্রহন করেছিলো। কিন্তু মুমিন নয়। এরা জেনেশুনে ঈমানের বিষয়ে ধোঁকাবাজী করার চেষ্টায় থাকে সর্বদাই। ঈমান এদের উপলব্ধিতে নাই। এদের কলবে সন্দেহের রোগ আছে আল্লাহর প্রতি, রাসুল সাঃ এর প্রতি ও মুমিনদের প্রতি। এরা শান্তির নামে ফেতনা সৃষ্টি করে। এরাই মুল ফাসাদ-সৃষ্টিকারী। এরা মুমিনদের বোকা মনে করে। তাদেরকে নিষ্ঠার সাথে ঈমান আনার কথা বললে তারা অবজ্ঞার সাথে তা প্রত্যখ্যান করে।
এরা মুনাফিক। এরা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে নামায পড়ে, রোযা রাখে, হজ্ব করে। কিন্তু কলবে ঈমান নাই। উপরন্তু যুগে যুগে এদের উত্তরসূরীরাই শান্তির নামে ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করেই চলেছে। এদের স্বার্থক উত্তরসুরী হচ্ছে ইয়াজিদ ও তার অনুসারীগণ।
হাদিসঃ
******
★ ইবরাহীম তায়মীয়ূ (রহ.) বলেনঃ আমার ‘আমলের সাথে যখন আমার কথা তুলনা করি, তখন আশঙ্কা হয়, আমি না মিথ্যাবাদী হই।
ইবনু আবূ মুলায়কাহ (রহ.) বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এমন ত্রিশজন সাহাবীকে পেয়েছি, যাঁরা সকলেই নিজেদের সম্পর্কে নিফাকের (মোনাফিকের স্বভাব) ভয় করতেন।
হাসান (বসরী) (রহ.) হতে বর্ণিত। নিফাকের ভয় মু’মিনই করে থাকে। আর কেবল মুনাফিকই তা থেকে নিশ্চিত থাকে।
[বুখারী (আধুনিক প্রকাশনী), ১ম খন্ড, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছদ (অনুচ্ছেদ) নম্বর ৩৬, পৃষ্ঠা নম্বর ৭৭ ।]
পর্যালোচনা:
***********
হাদিসের তথ্য মতে ৩০ জন সাহাবী নিফাকের (মুনাফিকের স্বভাব) ভয় করতেন। আর হাসান বসরীর ভাষ্যমতে নিফাকের ভয় মুমিনই করে থাকে। তাহলে এর অর্থ হলো রাসুল (সাঃ)-এর সাহাবীদের মধ্যে মুমিনের সংখ্যা ৩০। বাকী সব মুনাফিক। আল্লাহ সম্যক জ্ঞাত।
২) পবিত্র কোরআনঃ
★ আর যখন তারা তোমাদের নিকট আসে, তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি। অথচ অবশ্যই তারা কুফরি নিয়ে প্রবেশ করেছে এবং তারা তা নিয়েই বেরিয়ে গেছে। আর আল্লাহ সে সম্পর্কে জ্ঞাত, যা তারা গোপন করত।’ ( ০৫, সুরা মায়েদা : আয়াত ৬১)
পর্যালোচনা:
***********
এসব মুনাফিকদের দ্বারা ক্ষতি ছাড়া ইসলামের কোনো লাভ হয়নি। পূর্বেও না।আজও না। এরা কখনই কুফরি ত্যাগ করে নি। এরা মুমিন কোটেড কাফের। এদেরকে ও এদের উত্তরসূরীদের চেনা জরুরি। লেবাসধারী-কথিত ইসলামী ফতোয়া দ্বারা এরা সর্বদাই মুমিনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় থাকে।
৩) পবিত্র কোরআনঃ
★ তোমাদের কি হলো, মুনাফিকদের ব্যাপারে যে তোমরা দুই দল হয়ে গেলে? অথচ আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্যে তাদেরকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেছেন, তোমরা কি তাকে হেদায়েতের পথে চালাতে চাও?
(০৪, সুরা নিসা : আয়াত ৮৮)
এ বিষয়ে হাদিসঃ
★ যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের জন্যে বের হলেন। এমন সময় কতক লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সফরসঙ্গী হয়েও ফিরে আসলো। তাদের সম্পর্কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবাগণ দু’দলে ভাগ হয়ে গেল। কেউ বলল, আমরা তাদেরকে হত্যা করে ফেলব; আর কেউ বলল, আমরা তাদের হত্যা করব না। তখন অবতীর্ণ হলো, "তোমাদের কি হলো যে, তোমরা মুনাফিকদের ব্যাপারে দু’দলে ভাগ হয়ে গেলে?" (৪ঃ ৮৮)।
[মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ৬৭৭৪; মুসলিম (ইসলামিক সেন্টার) ৬৮২৯; মুসলিম (হাঃ একাডেমি), ৬৯২৪।]
পর্যালোচনা:
***********
ইসলামের দ্বিতীয় যুদ্ধ ঐতিহাসিক ওহুদ প্রান্তরের উদ্দেশ্যে রাসুল (সা.) জুম’আর নামাজ বাদ ১০০০ সাহাবী নিয়ে মদিনা থেকে রওয়ানা হলেন। এদের মধ্যে বিশ্বাসঘাতক আবদুল্লাহ বিন উবাইও ছিল। এ লোকটি দৃশ্যত মুসলমান হলেও কার্যত ছিল মুনাফিক। এর প্রভাবাধীন আরো বহু মুনাফিক মুসলমানদের সঙ্গে যাত্রা করেছিল। কিছুদূর গিয়ে আবদুল্লাহ বিন উবাই ৩০০ সাহাবী(!) নিয়ে হঠাৎ ‘যুদ্ধ হবে না’ বলে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো।
এ ব্যাপারে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) ১০০০ সৈন্য নিয়ে ওহুদ ও মদিনার মধ্যবর্তী অঞ্চল সওতে পৌঁছেন, তখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলুল এক-তৃতীয়াংশ সৈন্য নিয়ে বিদ্রোহ করে এবং বলে যে নবী (সা.) তো অন্যদের কথা শুনে মদিনার বাইরে এসেছেন আর আমার কথা শুনলেন না। আল্লাহর শপথ! কোন কল্যাণের লক্ষ্যে যে আমরা প্রাণ বিসর্জন দেব, তা আমার বোধগম্য নয়। এরপর সে বলল, হে লোকেরা! কেন তোমরা ভ্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর জীবন হারাতে যাচ্ছ? তারপর কপট ও সন্দেহ পোষণকারী কিছু মুনাফিকসহ সে ফিরে আসে।
ফিরে আসা ৩০০ মুনাফিককে নিয়ে সাহাবাদের মধ্যে দু'দল হয়ে গেল। একদল তাদেরকে হত্যা করতে চাইলেও অন্যদল ঐ বিশ্বাসঘাতকদের প্রতি দয়ার্দ্র হলেন। এরা প্রচ্ছন্ন মুনাফিক। এদের জন্যই উহুদ যুদ্ধে প্রাথমিক বিপর্যয় হয়েছিলো এবং এরাই রাসুল (সাঃ) কে যুদ্ধের ময়দানে রেখে পালিয়েছিলো।
কি আশ্চর্য! ঐ ৩০০ জন মুনাফিকের পরিচয় কোথাও নেই। হয়তো তারাই ছিলো পরবর্তীতে প্রভাবশালী সাহাবী(!)
৪) পবিত্র কোরআনঃ
★ নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহকে ধোঁকা দেয়। আর তিনি (আল্লাহ) তাদের ধোঁকায় ফেলে দেন। আর যখন তারা নামাজে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায়, তারা লোকদের দেখায় এবং তারা আল্লাহকে কমই স্মরণ করে।
(০৪, সুরা নিসা : আয়াত ১৪২)
পর্যালোচনা:
**********
মুনাফিকরা নামায পড়ে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে। রোবটের মতো। আল্লাহর স্মরণ তাতে কমই থাকে। মুলত লোক দেখানোটাই উদ্দেশ্য। যাতে করে তাদের মুনাফিকী ধরা না পড়ে। এর জলন্ত উদাহরণ কারবালার ঘটনা। বেহেশতের সর্দারকে হত্যা করে এরা বেহেশত চায়। এরা এভাবে আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চায়।
৪) পবিত্র কোরআনঃ
★ এরা ইসলাম গ্রহনের পর অবাধ্যচারণ করেছে এবং যে ষড়যন্ত্র করেছিলো, তা বাস্তবায়িত করতে পারেনি। নিজ দয়ায় আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তাদেরকে অভাবমুক্ত করেছেন বলেই তারা প্রতিশোধপরায়ণ হয়েছে। যদি অনুতপ্ত হয় তবে তা তাদের জন্য কল্যানকর হবে।
[০৯, সুরা তওবা : আয়াত ৭৪।]
পর্যালোচনা:
***********
৯ম হিজরীর রমযান মাসে তাবূক অভিযান থেকে মদীনায় ফেরার পথে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একটি সংকীর্ণ গিরিসংকট অতিক্রম করছিলেন। এ সময় তাঁর সাথে কেবল হযরত আম্মার বিন ইয়াসির ও হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান ছিলেন। প্রথমোক্ত জন রাসূলের উষ্ট্রীর লাগাম ধরে সামনে হাঁটছিলেন এবং শেষোক্ত জন পিছনে থেকে উষ্ট্রী হাঁকাচ্ছিলেন। মুসলিম বাহিনী তখন পিছনে উপত্যকায় ছিল। ১২ জন মুনাফিক-সাহাবী যারা এতক্ষণ সুযোগের অপেক্ষায় ছিল, তারা মুখোশ পরে দ্রুত এগিয়ে এসে ঐ গিরিসংকটে প্রবেশ করল এবং পিছন থেকে অতর্কিতে রাসূলকে হত্যা করতে উদ্যত হল। হঠাৎ পদশব্দে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) পিছন ফিরে তাকান এবং হুযায়ফাকে ওদের ঠেকানোর নির্দেশ দেন। হুযায়ফা তাঁর ঢাল দিয়ে ওদের বাহনগুলির মুখের উপরে আঘাত করতে থাকেন। এতেই আল্লাহর ইচ্ছায় তারা ভীত হয়ে পিছন ফিরে দৌড় দিয়ে দ্রুত সেনাবাহিনীর মধ্যে হারিয়ে যায়। এভাবেই মুনাফিকরা অন্যান্য সময়ের ন্যায় এবারেও রাসূলের ক্ষতি সাধনে ব্যর্থ হ’ল। এবিষয়ে উক্ত আয়াত নাযিল হয়।
এ বিষয়ে হাদিসঃ
★ কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার সাহাবাদের মাঝে বারোজন মুনাফিক লোক আছে। এদের আটজনের জান্নাতে প্রবেশ করা এমনিভাবে অসম্ভব যেমনিভাবে সূচের ছিদ্র দিয়ে উষ্ট্রের প্রবেশ করা অসম্ভব। দুবাইলাহ্ (এক প্রকার বড় ধরনের ফোড়া) আটজন লোককে শেষ করে দিবে।
আসওয়াদ (রহঃ) বলেন, বাকী চার লোক সম্বন্ধে শুবাহ কি বলেছেন, আমার তা মনে নেই।
[মুসলিম(ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ৬৭৭৮; মুসলিম (ইসলামিক সেন্টার) ৬৮৩৩; মুসলিম (হাঃ একাডেমি) ৬৯২৮।]
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাদের সকলের নাম ও তাদের অসদুদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত করেন। তবে সেগুলি সর্বসমক্ষে প্রকাশ করতে তাদের নিষেধ করেন। হয়তো ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হবে ভেবে তিনি নিষেধ করেছেন। কারণ ঘটনাস্থলে ১২ জন মুনাফিক-সাহাবী থাকলেও হত্যা পরিকল্পনার সাথে সাহাবীদের এক বৃহৎ অংশ জড়িত থাকতে পারে, যা প্রকাশ হলে নতুন শিশু-ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য তা হয়তো হুমকি স্বরূপ হতে পারে। আল্লাহই সঠিক জ্ঞাত।
★ সাঈদ বর্ণনা করেছেন যে, কোনো লোকের মৃত্যু হলে হযরত উমার-এর মনে যদি সন্দেহ দেখা দিত সে লোক তাদের একজন কিনা, তাহলে তিনি হযরত হুযায়ফার দিকে লক্ষ্য করতেন। তিনি তার জানাযা পড়লে উমারও তার জানাযা পড়তেন। অন্যথায় ত্যাগ করতেন।
আরও বর্ণিত হয়েছে, হযরত উমার হযরত হুযায়ফাকে একবার কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, বলুন তো আমিও কি তাদের একজন? হযরত হুযায়ফা বললেন, না, মহান আল্লাহর কসম। তবে আপনার পরে আমি আর কারও ব্যাপারে মুনাফিকী হতে নিরুদ্বেগ নই।
[তাফসীর ইবনে কাসীর, (৭/৮/৯/১০/১১) খন্ড, পৃষ্ঠা ৭৯৩;
[তাফসীরে তাবারী (ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ), ১১খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৪, হাদিস নম্বর, ১৭১২৯।]
পর্যালোচনা:
**********
হযরত উমার হুযায়ফাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন তিনি সেই মুনাফিকদের একজন কিনা! পরিস্থিতি তখন কতোটা ভয়াবহ ছিলো তা সহজে অনুমেয়। হযরত হুযায়ফার উত্তরটা আরো ভয়াবহ, কারণ তিনি "আর কারো ব্যাপারে মুনাফিকী বিষয়ে নিরুদ্বেগ নন"। সত্যিকার মুমিন তখন সত্যিই কতো কম ছিল! আজও সেই অবস্থা!
এ বিষয়ে আরো একটি হাদিসঃ
★ আসওয়াদ (রা) বর্ণনা করিয়াছেনঃ একদা আমরা সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মসউদের নিকট বসিয়াছিলাম। তথায় বিশিষ্ট সাহাবী হোযায়ফা (রা) পৌছলেন এবং সালাম করলেন। অতঃপর কথা প্রসঙ্গে হোযায়ফা (রা) বলিলেন, এমন লোকদের মধ্যেও মোনাফিকী সৃষ্টি হইয়াছিল, যাহারা তোমাদের অপেক্ষা উত্তম শ্রেণীর লোক পরিগণিত ছিলেন।
[বোখারী (হামিদিয়া লাইব্রেরী লিঃ), ৬ষ্ঠ খন্ড, হাদিস নম্বর ১৯০৭।]
পর্যালোচনাঃ
***********
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মসউদ একজন বিখ্যাত সাহাবী হিসাবে পরিচিত। তার থেকে উত্তম শ্রেণীর লোক বলে পরিগণিত ছিলেন হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন সাহাবী। হযরত হুযায়ফার ভাষ্যমতে সেই কয়েকজনের মধ্যেও মুনাফিকী সৃষ্টি হয়েছিল। প্রকৃত অবস্থা কি ভয়াবহই না ছিলো!
৫) পবিত্র কোরআনঃ
★ যারা ঈমান এনেছে, তারপর কুফরি করেছে, তারপর (আবার) ঈমান এনেছে, তারপর (আবার) কুফরি করছে, তারপর কুফুরিতে অগ্রসর হয়েছে। আল্লাহ কিছুতেই তাদের ক্ষমা করবেন না। এবং তাদের সঠিক পথও দেখাবেন না।
(০৪, সুরা নিসা : আয়াত ১৩৭)
পর্যালোচনা:
***********
এরা বারবার অপরাধ করেই চলেছে। অথচ আমরা এদেরকে সাহাবী বলেই জানি! আমরা আরো জানি কলেমা পড়লেই সাত-খুন মাফ! অথচ কোরআন বলছে, "আল্লাহ কিছুতেই তাদের ক্ষমা করবেন না।"
হাদিসঃ
★ হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, এক জুমুআয় রাসুল (সাঃ) খুৎবায় ঘোষনা করলেন, হে অমুক! তুমি বের হয়ে যাও। কারণ, তুমি মুনাফিক। হে অমুক! তুমি বের হও। তুমিও মুনাফিক। এভাবে তিনি একদল লোককে মসজিদ থেকে বের করে দেন। এটা ছিল তাদের (মুনাফিকদের) জন্য চরম লাঞ্ছনাকর।
[তাফসীরে তাবারী (ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ), ১১খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৩, হাদিস নম্বর, ১৭১২১]
পর্যালোচনা:
***********
জুম্মার খুৎবার সময় এইসব মুনাফিকদেরকে রাসুল (সাঃ) মসজিদ থেকে বের করে দিলেন। অর্থাৎ মুনাফিকদের নামায পড়া আর না পড়া দু'ই সমান। অথচ কোথাও এদের নাম পাওয়া যায় না। এমনকি হাদিসটি বর্ণনার সময় বর্ণনাকারী (রাবী) নাম না বলে "অমুক" বলে এড়িয়ে গেছেন। হয়তো এই মুনাফিকরা তখন ছিলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। নাম নিলে হয়তো বিপদ ছিলো। আমরা এদেরকে সাহাবী বলেই জানি!
৬) মুনাফিক বিষয়ে একটি আস্ত সুরা মুনাফিকুন (৬৩ নম্বর সুরা) সহ অগনিত আয়াত পবিত্র কোরআনে আছে। অথচ মুনাফিক বলতে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই সহ মাত্র কয়েকজনের নাম কেবল পাওয়া যায়।
উহুদের প্রকাশিত ৩০০ জন, তাবুক থেকে ফেরার সময় গিরিখাদের ১২জন, মসজিদ থেকে বিতাড়িত মুনাফিকদের কারো নাম রহস্যজনকভাবে সামনে আসেনি। তারা সবাই সাহাবীদের কাতারে মিশে আছে।
এছাড়া সাহাবাদের একটা বিরাট অংশ, যারা, যতক্ষণ রাসুল সাঃ এর নিকট থাকতেন ততক্ষণ তাদের নিজেদেরকে মুমিন মনে হতো, অন্য সময় তারা সাময়িক-মুনাফিকীতে পড়ে যেতেন বলে তাদের মনে হতো। এ সারিতে হযরত আবুবকর, হযরত হানযালা, হযরত আবু হোরায়রা সহ অধিকাংশ সাহাবীই ছিলেন।
এ বিষয়ে হাদিস:
★ হানযালা আল-উসাইদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সচিবগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি কোন একদিন কাঁদতে কাদতে আবূ বকর (রাঃ)-এর সম্মুখ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) তাকে প্রশ্ন করেন, হে হানযালা! তোমার কি হয়েছে? তিনি বললেন, হে আবূ বকর! হানযালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে। আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মাজলিসে অবস্থান করি এবং তিনি আমাদেরকে জান্নাত-জাহান্নামের স্মরণে নাসীহাত করেন, তখন মনে হয় যেন আমরা সেগুলো স্বচক্ষে দেখছি। কিন্তু বাড়ী ফিরে আসার পর স্ত্রী-পুত্র-পরিজন ও বিষয়-সম্পদের কাজে ব্যাকুল হয়ে পড়ি এবং অনেক কিছুই ভুলে যাই।
আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমাদেরও তো এই অবস্থা। চলো আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাই। তারপর আমরা সেদিকে যাত্রা শুরু করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে প্রশ্ন করেন, হে হানযালা! কি সংবাদ? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! হানযালা তো মুনাফিক্ হয়ে গেছে।আমরা যখন আপনার নিকটে থাকি আর আপনি প্রত্যক্ষভাবে দেখছি। পরে যখন বাড়ী ফিরে গিয়ে স্ত্রী-পুত্র-পরিজন ও বিষয় সম্পদের কাজে ব্যাকুল হয়ে পড়ি তখন অনেক কিছুই ভুলে যাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমার নিকট হতে যে অবস্থায় ফিরে যাও, যদি সবসময় এই অবস্থায় থাকতে তাহলে অবশ্যই তোমাদের বৈঠকে, বিছানায় এবং পথে-ঘাটে ফেরেশতারা তোমাদের সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করতো।
[সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪২৩৬), তিরমিজি, মুসলিম(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭১৩, ইসলামিক সেন্টার ৬৭৬৯)]
★ আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের একি অবস্থা যে, যখন আপনার কাছে থাকি তখন আমাদের হৃদয় কোমল হয় এবং আমরা দুনিয়া বিমুখ হয়ে পড়ি। আর আমরা হয়ে যাই আখিরাতের লোকের ন্যায়।
কিন্তু যখন আপনার এখান থেকে বের হয়ে গিয়ে পরিবার-পরিজনদের সাথে মেলামেশা করি এবং সন্তান-সন্ততিদের সোহাগ করি তখন আমাদের মনকে অন্য রকম পাই।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যখন তোমরা আমার নিকট থেকে বেরিয়ে যাও তখনও যদি তোমরা সে অবস্থায় থাকতে তবে ফিরিশতাগণ তোমাদের ঘরে এসে তোমাদের যিয়ারত করতেন।
[তিরমিজি (ইঃ ফাঃ বাঃ), ২৫২৮।]
রাসুল সাঃ এর ওফাতের পরপরই এই বিশাাল সাহাবীদের ঈমানের জোর কমতে থাকে।
এ বিষয়ে হাদিসঃ
★ আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দিন হিজরত করে মদীনায় প্রবেশ করেন সেদিন সেখানকার প্রতিটি জিনিস জ্যোতির্ময় হয়ে যায়। তারপর যে দিন তিনি মৃত্যুবরণ করেন সেদিন আবার সেখানকার প্রত্যেকটি বস্তু অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়।
তার দাফনকার্য আমরা সমাপ্ত করে হাত থেকে ধূলা না ঝাড়তেই আমাদের মনে পরিবর্তন এসে গেল (ঈমানের জোর কমে গেল)।
[সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৬৩১)। তিরমিজি ৬ষ্ঠ খন্ড, বা ই সে, ৩৫৫৭। আহমাদ ১২৮৯৯, দারেমী ৮৮ তাহকীক আলবানীঃ মিশকাত ৫৯৬২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।]
৭) পবিত্র কোরআনঃ
★ তোমরা তাদেরকে দেখলে তাদের চেহারা-নমুনা তোমাদেরকে মুগ্ধ করবে। কিন্তু আসলেই এরা খোদাই করা কাঠ মাত্র ( যা দেওয়ালে ঠেস দিয়ে রেখে দেওয়া আছে)। প্রতিটি জোরদার আওয়াজকে এরা তাদের বিরুদ্ধে মনে করে। এরা পাকা দুশমন। এদের থেকে হুঁশিয়ার থাকো।
[৬৩, সুরা মুনাফিকুন : আয়াত ০৪]
পর্যালোচনাঃ
***********
এ উদাহরণ যেমন রাসুল সাঃ এর যুগে ছিলো, এখনও তেমনি আছে। এদের বেশভূষা, চেহারা, কথাবলা দেখলেই মনে হবে কতো বড়ো আল্লাহওয়ালা। অথচ কোরআন বলছে, এরাই পাকা দুশমন। এরাই ধর্মের নামে মনগড়া কথাবলে আমাদেরকে আ়ল্লাহ ও রাসুল (সাঃ)-এর পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টায় থাকে।
কোরআন বলছে, এদের থেকে হুঁশিয়ার থাকো। রাসুল (সাঃ)-এর যুগে এরা সাহাবী হলেও পাকা মুনাফিক।
৮) পবিত্র কোরআনঃ
★ তোমাদের চারপাশে যে সব আরব (বেদুঈন) থাকে, তাদের মধ্যে মুনাফিক রয়েছে। তেমনিভাবে মদীনাবাসীদের মধ্যেও মুনাফিক আছে, যারা মুনাফিকীতে পাকা হয়ে গেছে। তোমরা তাদের জানো না। আমি তাদেরকে জানি।
[ ০৯, সুরা তওবা : আয়াত ১০১]
পর্যালোচনা:
**********
রাসুল (সাঃ) এর চারপাশে এই পাকা মুনাফিকগণ থাকতো। আয়াতের মর্ম এটাই বোঝায় যে, তারা অবশ্যই পরিচিত ছিলো, কিন্তু তাদেরকে মুনাফিক হিসাবে কেউ জানতো না। তার মানে তারা বড়ো বড়ো সাহাবী হিসাবে সবার কাছে পরিচিত ছিলো।
রাসুল সাঃ এর ওফাতের পরপরই এদের স্বরূপ(পাকা মুনাফিকী) প্রকাশিত হতে শুরু করে। এরা ছিলো প্রভাবশালী, ক্ষমতাধর, ধুরন্ধর ও মুখোশধারী। "বিদাতে হাসানা"(সুন্দর বিদাত) নামে এরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ)-এর বিধানের বিপরীতে নতুন নতুন বিধান তৈরী করে অনবরত খারাপ পথে চলতেই থাকে।
হাশরের দিন হাউযে কাউসারে রাসুল (সাঃ)-এর সামনে থেকে এদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হবে। এবং জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। রাসুল (সাঃ) তখন এদের সাহাবী হিসাবে চিনতে পারবেন। রাসুল (সাঃ) কে তখন বলা হবে, আপনি তো জানেন না, এরা আপনার মৃত্যুর পর কি কি করতে শুরু করেছিলো। তখন তাঁকে বিস্তারিত বলা হবে।
এ বিষয়ে কয়েকটি হাদিসঃ
***********************
★ ৪১৭০. বুখারী (তাওহীদ)
মুসাইয়্যাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ)-এর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বললাম, আপনার খোশ খবর, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গ পেয়েছেন এবং বৃক্ষ তলে তাঁর নিকট বাই‘আত করেছেন। তখন তিনি বললেন, ভাতিজা! তুমি তো জান না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর আমরা কী কী নতুন বিষয় উদ্ভাবন করেছি।
[বুখারী (আধুনিক প্রকাশনী), ৩৮৫৫; বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), ৩৮৫৮।]
★ ৬১১৯। বুখারী (আধুনিক প্রকাশনী)
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত। নবী সাঃ বলেন, আমি হাউযে কাউসারে তোমাদের অগ্রগামী। তোমাদের মধ্যকার কতক লোককে উপস্থাপন করা হবে (আমার সম্মুখে)। তারপর তাদেরকে আমার কাছ থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি বলবো, হে আমার রব! এরা তো আমার সাহাবী। আমাকে বলা হবে, আপনি জানেন না, আপনার অবর্তমানে তারা দ্বীন বহির্ভূত কতো নতুন কাজ করেছে।
★ ৬১২৭। বুখারী (আধুনিক প্রকাশনী)
সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহ.) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেনঃ আমার কতক সাহাবী হাউযে আমার কাছে উপস্থিত হবে। আর তাদেরকে হাউয থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি বলবোঃ আয় আল্লাহ! আমার সাহাবী।
আল্লাহ বলবেনঃ আপনার জানা নেই, আপনার পরে এরা কি সব চালু করেছে। এরা দ্বীন ইসলাম ত্যাগ করে পূর্বাবস্থায় ফিরে গিয়েছিলো।
★ ৬১৩৬। বুখারী (ইঃ ফাঃ বাঃ)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক সময় আমি (হাশরের ময়দানে) দাঁড়িয়ে থাকব। হঠাৎ দেখতে পাব একটি দল এবং আমি যখন তাদেরকে চিনে ফেলব, তখন আমার ও তাদের মাঝ থেকে একটি লোক বেরিয়ে আসবে এবং সে বলবে, আপনি আসুন। আমি বলব, কোথায়? সে বলবে, আল্লাহর কসম জাহান্নামের দিকে। আমি বলব, তাদের অবস্থা কি? সে বলবে নিশ্চয় এরা আপনার ইন্তেকালের পর দ্বীন থেকে পশ্চাদ দিকে সরে গিয়েছিল। এরপর হঠাৎ আরেকটি দল দেখতে পাব। আমি তাদেরকে চিনে ফেলব। তখন আমার ও তাদের মাঝ থেকে একটি লোক বেরিয়ে আসবে। সে বলবে, আসুন! আমি বলবঃ কোথায়? সে বলবে আল্লাহর কসম, জাহান্নামের দিকে। আমি বলব, তাদের অবস্থা কি? সে বলবে, নিশ্চয়ই এরা আপনার ইন্তেকালের পর দ্বীন থেকে পশ্চাদপানে ফিরে গিয়েছিল। আমি মনে করি এরা রাখাল ছাড়া উটের মতো কম পরিমাণে নাজাত পাবে।
★ ৫৭৯২। মুসলিম (ইঃ ফাঃ বাঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই হাউযের পাড়ে এমন কিছু লোক আসবে যারা দুনিয়াতে আমার সাহচর্য লাভ করেছিল। এমন কি যখন আমি তাদের দেখতে পাব এবং তাদেরকে আমার সম্মুখে নিয়ে আসা হবে, তখন আমার নিকট আসতে তাদের বাধা দেওয়া হবে। তারপর আমি বলব, আয় রব্ব! এরা আমার সাথী, এরা আমার সাথী। তখন আমাকে বলা হবে, অবশ্য আপনি জানেন না, আপনার পর এরা কি উদ্ভাবন (কিরূপ বিদ'আত) করেছে।
★ ৩১০১। বুখারী (আধুনিক প্রকাশনী)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয়ই তোমাদেরকে হাশর ময়দানে খালি পা, বস্ত্রহীন এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় উপস্থিত করা হবে। অতঃপর তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ যেভাবে আমি প্রথমে সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। এটি আমার প্রতিশ্রুতি। এর বাস্তবায়ন আমি করবই- (আম্বিয়াঃ ১০৪)।
আর আমার আসহাবের মধ্য হতে কয়েকজনকে পাকড়াও করে বাম দিকে অর্থাৎ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব, এরা তো আমার আসহাব, এরা তো আমার আসহাব। এ সময় আল্লাহ বললেন, যখন আপনি এদের নিকট হতে বিদায় নেন, তখন তারা পূর্ব ধর্মে ফিরে যায়। কাজেই তারা আর আপনার সাহাবী নয়।
তখন আল্লাহর নেক বান্দা [ঈসা (আঃ)] যেমন বলেছিলেন; তেমন আমি বলব, হে আল্লাহ! আমি যতদিন তাদের মাঝে ছিলাম, ততদিন আমি ছিলাম তাদের অবস্থার পর্যবেক্ষক। আপনি ক্ষমতাধর হিকমতওয়ালা-(আল-মায়িদাহ ১১৭-১১৮)।
[বুখারী(ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ৩১০৯; বুখারী(তাওহীদ), ৩৩৪৯।]
★ ৩৪৪৭. বুখারী (তাওহীদ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা হাশরের ময়দানে নগ্নপদে, নগ্নদেহে খাতনাবিহীন অবস্থায় একত্রিত হবে। অতঃপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেনঃ যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করবো। এটা আমার অঙ্গীকার। আমি তা অবশ্যই পূর্ণ করব- (আল-আম্বিয়া ১০৪)।
অতঃপর আমার সাহাবীদের কিছু সংখ্যককে ডান দিকে (জান্নাতে) এবং কিছু সংখ্যককে বাম দিকে (জাহান্নামে) নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব, এরা তো আমার অনুসারী। তখন বলা হবে আপনি তাদের হতে বিদায় নেয়ার পর তারা মুরতাদ হয়ে গেছে।
[বুখারী(আধুনিক প্রকাশনী), ৩১৯২; বুখারী(ইসলামিক ফাউন্ডেশন), ৩২০১।]
★ ৬৫২৬. বুখারী (আধুনিক প্রকাশনী)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। এরপর বললেনঃ নিশ্চয়ই তোমাদের হাশর করা হবে নগ্ন পা, নগ্ন দেহে ও খাতনাবিহীন অবস্থায়। আয়াতঃ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيْدُهُ অর্থাৎ আল্লাহ্ বলেন, যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে আবার সৃষ্টি করব।
আর বাঁ হাতে আমলনামাপ্রাপ্ত আমার উম্মতের কতক ব্যক্তিকে হাজির করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আমি আরয করবোঃ হে রব! এরা আমার আসহাবভুক্ত। আল্লাহ বলবেনঃ তুমি জানো না, তোমার পরে এরা কি সব নতুন কথা আবিষ্কার করেছে।
তখন আমি নিবেদন করব, যেমন নিবেদন করেছে পুণ্যবান বান্দা অর্থাৎ ‘ঈসা (আঃ)’’ وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيْدًا مَا دُمْتُ فِيْهِمْ ..... الْحَكِيْمُ আয়াত পর্যন্ত। অর্থাৎ আর তাদের কাজ কর্মের ব্যাপারে সাক্ষী ছিলাম যদ্দিন আমি তাদের মাঝে ছিলাম الْحَكِيْمُ..... পর্যন্ত।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অতঃপর বলা হবে। নিশ্চয়ই সর্বদা এরা মুরতাদ (দ্বীন ত্যাগ) হয়ে পূর্বাবস্থায় (কুফরীতে) ফিরে যেত।
★ ৪৭০- মুসলিম (হাঃ একাডেমি)
আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের কিছুলোক কিয়ামাতের দিন আমার কাছে হাওযে কাওসারে উপস্থিত হবে। আর আমি তাদেরকে তা থেকে এমনভাবে বিতাড়িত করব, যেভাবে কোন ব্যক্তি তার উটের পাল থেকে অন্যের উটকে বিতাড়িত করে থাকে। (এ কথা শুনে) লোকেরা জিজ্ঞেস করলঃ আল্লাহর নবী! আপনি কি আমাদেরকে চিনতে পারবেন? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ। তোমাদের এমন এক চিহ্ন হবে যা অন্য কারোর হবে না। ওযুর প্রভাবে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত-পায়ের দীপ্তি ও উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে পড়বে। উজ্জ্বল জ্যোতি বিচ্ছুরিত অবস্থায় তোমরা আমার নিকট আসবে।
আর তোমাদের একদল লোককে জোর করে আমার থেকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। তাই তারা আমার কাছে পৌছাতে পারবে না। তখন আমি বলব, হে আমার প্রভু! এরা তো আমার লোক। এর জবাবে একজন ফেরেশতা আমাকে বলবে, আপনি জানেন না, আপনার অবর্তমানে (ইনতিকালের পরে) তারা কি কি নতুন কাজ (বিদ'আত) করেছে!
[মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), ৪৭৩; মুসলিম (ইসলামিক সেন্টার), ৪৮৯।]
★ ৫৮৭২- মুসলিম (হাঃ একাডেমি)
আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি 'হাওযে’র নিকট তোমাদের অগ্রগামী। আর আমি অবশ্যই কিছু দলের সম্বন্ধে বাক-বিতণ্ডা করব এবং আমি অবশ্যই তাদের ব্যাপারে পরাজিত হয়ে যাব। তখন আমি বলব, হে রব! (এরা তো) আমার সহচর, আমার সঙ্গী। তখন বলা হবে, আপনি তো জানেন না যে, তারা আপনার পরে কি নিত্য-নতুন (বিষয়াদি) আবিষ্কার করেছে?
[মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), ৫৭৭৬; মুসলিম (ইসলামিক সেন্টার), ৫৮০৭।]
★ ৫৮৯০- মুসলিম (হাঃ একাডেমি)
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই হাওযের পাশে এমন কতিপয় লোক আসবে যারা পৃথিবীতে আমার সাহচর্য পেয়েছিল। এমন কি যখন আমি তাদের দেখতে পাব এবং তাদেরকে আমার সামনে নিয়ে আসা হবে, তখন আমার কাছে আসতে তাদের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। অতঃপর আমি বলব, হে প্ৰভু! এরা আমার সঙ্গী, এরা আমার সঙ্গী। তখন আমাকে বলা হবে, নিশ্চয়ই আপনি জানেন না, আপনার পর এরা কিভাবে দীনের মধ্যে নব উদ্ভাবন করেছে।
[মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), ৫৭৯২; মুসলিম (ইসলামিক সেন্টার), ৫৮২৫।]
★ ৩০৫৭। ইবনে মাজা
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতের ময়দানে তাঁর কানকাটা উষ্ট্রীতে আরোহিত অবস্থায় বলেনঃ তোমরা কি জানো আজ কোন দিন, এটা কোন মাস এবং এটা কোন শহর? তারা বলেন, এটা (মক্কা) সম্মানিত শহর, সম্মানিত মাস ও সম্মানিত দিন। তিনি আরো বলেনঃ সাবধান! তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের রক্ত তোমাদের পরস্পরের প্রতি তেমনি হারাম যেমনি তোমাদের এই মাসের সম্মান রয়েছে তোমাদের এই শহরে তোমাদের এই দিনে।
শুনে রাখো! আমি তোমাদের আগেই হাওযে কাওসারে উপস্থিত থাকবো। অন্যান্য উম্মাতের তুলনায় তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে আমি গৌরব করবো। তোমরা যেন আমার চেহারা কালিমালিপ্ত না করো। সাবধান! কিছু লোককে আমি মুক্ত করতে পারবো, আর কিছু লোককে আমার নিকট থেকে ছিনিয়ে নেয়া হবে। তখন আমি বলবো, হে আল্লাহ! এরা তো আমার সাহাবী! তিনি বলবেনঃ তোমার পরে এরা কী বিদআতী কাজ করেছে, তা তুমি জানো না।
[তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।]
★ ২৪২৩। তিরমিজি (তাহকিককৃত)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে মানুষকে খালি পায়ে, উলঙ্গ শরীরে ও খাৎনাবিহীন অবস্থায় হাযির করা হবে, যেভাবে প্রথমবার সৃষ্টি করা হয়েছিল। তারপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ “আমি যেভাবে প্রথমবার সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবেই আবার সৃষ্টি করব। প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা আমার কর্তব্য, আমি তা পালন করবই" (সূরাঃ আম্বিয়া- ১০৪)।
আমার সাহাবীগণের মধ্যকার কিছু সংখ্যক লোককে বন্দী করে ডানে-বামে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব, হে প্ৰভু! এরা তো আমার সাহাবী। আমাকে তখন বলা হবে, আপনি তো জানেন না, আপনার পরে এরা যে কি সব বিদ'আতী কাজ করেছে। আপনি তাদের কাছ থেকে পৃথক হওয়ার পর হতে তারা পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে আরম্ভ করেছে।
[তিরমিজি (বা ই সে), ৪র্থ খন্ড, ২৩৬৫।]
★ ৩১০৫। তিরমিজি [(বা ই সে), ৫ম খন্ড]
ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াজ-নাসীহাত করতে দাড়িয়ে বললেনঃ হে লোকেরা! কিয়ামতের দিন তোমরা নগ্ন ও খাতনাহীন অবস্থায় আল্লাহ তা'আলার নিকট সমবেত হবে। (বর্ণনাকারী বলেন,) তারপর তিনি পড়লেনঃ "যেভাবে প্রথম আমরা সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবেই তার পুনরাবৃত্তি করব। এটা একটা ওয়াদাহ্, যা পূরণ করার দায়িত্ব আমার। আর এ কাজ আমি অবশ্যই করবো”— (সূরা আম্বিয়া ১০৪)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ আমার উম্মাতের কিছু সংখ্যক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে এবং তাদেরকে ধরে বাঁ দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি তখন বলবঃ হে আমার সৃষ্টিকর্তা! এরা আমার সাহাবী। তখন বলা হবে, আপনি জানেন না, এরা আপনার বিদায়ের পর কি ধরনের বিদআতে লিপ্ত হয়েছিল।
আমি সে সময় একজন সৎকর্মশীল বান্দার [ঈসা (আঃ)] মত বলবঃ (কুরআনের ভাষায়) “আমি যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মধ্যে ছিলাম ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের পরিচালক ছিলাম। কিন্তু আপনি যখন আমাকে তুলে নিলেন, তখন আপনিই ছিলেন তাদের তত্ত্বাবধায়ক। আর আপনি তো সকল বিষয়ের সাক্ষী। আপনি যদি তাদেরকে আযাব দেন তবে তারা তো আপনারই বান্দা, আর যদি ক্ষমা করে দেন তাহলে আপনি তো পরাক্রান্তশালী ও প্রজ্ঞাময়"- (সূরা আল-মায়িদাহ ১১৭-১১৮)।
তখন বলা হবে, আপনি যখন তাদেরকে রেখে এসেছেন, তখন থেকে এরা অনবরত খারাপ পথেই চলেছে।
[সহীহঃ বুখারী, মুসলিম। তিরমিজি (তাহকিককৃত) ৩১৬৭]
পর্যালোচনাঃ
***********
এই সব জাহান্নামী পাকা মুনাফিক সাহাবী-প্রবর্তিত কুকর্ম ও বিদাতের জঞ্জাল থেকে প্রকৃত ইসলামকে চিনতে হলে এদেরকে চেনাটাই আগে জরুরি। হয়তো আমরা অজান্তেই এই পাকা মুনাফিকদেরকে মুক্তির দূত হিসাবে ধরে আছি।

ডিপ্রেশন কী?

  ডিপ্রেশন কী? উত্তরঃ তুমি এবং তোমার স্রষ্টার মধ্যকার দুরত্বের নামই হল ডিপ্রেশন। খাদিজা(রা:) খুব ধনী ঘরের মেয়ে ছিলেন। বিলাসিতার মধ্যেই বড় হও...