Monday, August 22, 2022

মাওলানা ও দাড়ি, জোব্বা সম্পর্কে

 ****** নিজের অজান্তেই আমরা সমাজের মোল্লাদের প্রভু বলে ডাকছি। হে মুসলিম জাতি আর কতকাল অজ্ঞতার বশে শিরক কাজ করবেন।

মাওলানা - খ্রিস্টানদের উপাধি। মাওলানা কথাটির বাংলা অর্থ হলো -”আমাদের প্রভু।” মাওলা + আনা = মাওলানা। মাওলা শব্দের অর্থ হলো খোদা আর আনা শব্দের অর্থ হলো আমাদের /আমি। এই কথাটি সর্বশক্তিমান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে নয়টি স্থানে ব্যবহার করেছেন যার অর্থ- "আমাদের প্রভু" । দুনিয়ার কোন নবী , রাসূলগন তাঁদর নামের পূর্বে "মাওলানা" কথাটি ব্যবহার করেন নাই । যেমন - মাওলানা হযরত আদম (আঃ) , মাওলানা ইব্রাহীম (আঃ) , মাওলানা মূসা (আঃ) , মাওলানা ঈসা (আঃ) ,মাওলানা মুহাম্মদ (সাঃ) । এরকম নাই।এমনকি রাসূলের (সাঃ) কোন সাহাবী তাদের নামের পূর্বে এই কথাটি ব্যবহার করেন নাই । যেমন - মাওলানা হযরত আবু বকর , মাওলানা হযরত ওমর, মাওলানা হযরত ওসমান ইত্যাদি। এরকম নাই। এছাড়াও হাদিস সংকলনকারীদের কেউ যেমন - মাওলানা বোখারী , মাওলানা মুসলিম , মাওলানা তিরমিজি । এরকম নাই। আবার কোন মাযহাবের ইমামদের নামের পূর্বে যেমন -মাওলানা হানাফী , মাওলানা শাফেয়ী , মাওলানা হাম্বলী , মাওলানা মালেকী নাই । অন্যদিকে কোন তরিকার ইমামদের নামের পূর্বে যেমন - মাওলানা আব্দুল কাদের জিলানী , মাওলানা খাজা মুইনুদ্দীন চিশতি নাই । বাংলার জমিনে যাদের অক্লান্ত চেষ্টা সাধনার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম পেলাম তাদের নামের পূর্বে যেমন -মাওলানা শাহজালাল , মাওলানা শাহপরান , মাওলানা খান জাহান আলী নাই । তাহলে ‘মাওলানা" টাইটেলে আল্লার কোন নবী , কোন রাসূল হতে পারলেন না , কোন সাহাবী , কোন ইমাম , কোন আউলিয়া হতে পারলেন না ।অথচ এই মাওলানা কিন্ত বর্তমান জামানার মোল্লারা ।তারা কি আমাদের প্রভু বা আমাদের খোদা ? এর চেয়ে বড় শিরক কি হতে পারে ? এবার দেখা যাক কোথা থেকে আমদানী হইল এই মাওলানা খেতাব ।১৭৮২ সালে বৃটিশ শাসন আমলে সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা । এই কথিত ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম প্রিন্সিপাল থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে ২৬ জন ১০০ বছর প্রিন্সিপাল ছিল খ্রীষ্টান । এই প্রিন্সিপালবৃন্দ সকলেই খ্রীষ্ট ধর্মের লোক ছিলেন । কেউই মুসলিম ছিলেন না । অর্থাৎ ইসলাম ধর্মের সার্টিফিকেট দিচ্ছেন অন্য ধর্মের ব্যক্তিগন ! ওখান থেকে পাস করলে মোল্লাদের দেওয়া হয় "মাওলানা" খেতাব । পরবর্তীতে ১৮৩৭ সালে এদের শাসন আমলেই প্রতিষ্ঠিত হয় দেওবন্দ মাদ্রাসা ।দুনিয়াতে আজ পর্যন্ত কোন খ্রীষ্টান গীর্জায় বা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মুসলিম ছিলেন না । এমনকি কোন হিন্দু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান পুরোহিত কোন মুসলিম ব্যক্তি ছিলেন না। অন্য ধর্মালম্বী হয়ে তারা লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করেছে ইসলাম ধর্মের জন্য ? বাহ কি চমৎকার জনদরদী খ্রীষ্টানরা। ধর্ম শিখলেন খ্রীষ্টানদের কাছ থেকে, তাহলে আপনি মুসলমান দাবি করেন কোন ভিত্তিতে। লজ্জা হওয়া উচিত আমাদের।আমাদের চারিপাশের সমাজের প্রচলিত ইসলামের অধিকাংশটাই হলো মুয়াবিয়া-ইয়াজিদ প্রতিষ্ঠিত মধ্যপ্রাচ্যের রাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মদদপুষ্ট ও তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী দালাল মোল্লা প্রদত্ত ও খ্রীষ্টান-প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা প্রদত্ত।মুল ইসলাম আছে মুহাম্মদ (সাঃ) ও আলে মুহাম্মদ (মুহাম্মদ সাঃ এর বংশধর)-এর কাছে। যাঁদের উপর আমরা দরূদ পড়ি। আর সকল মাযহাব অন্তত একমত যে, মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর বংশধরের উপর দরূদ না পড়লে কোনো বান্দার ইবাদতই কবুল হয় না। অতএব তাঁরাই ইসলামের মুল। তাঁরাই আল্লাহর প্রিয়ভাজন।


***** সুন্নত কি? দাড়ি, জুব্বা ও টুপি কি সুন্নত?

সুন্নত অর্থ পথ বা রীতিনীতি। আসুন কোরআন ও হাদিসের আলোকে সত্য জানি।

*******************

হে রাসূল আমি আপনাকে জগৎ সমূহের জন্য রহমত হিসাবে প্রেরণ করলাম। ( সূরা আম্বিয়া: আয়াত নং ১০৭ )

সে প্রকৃত মুসলমান যার মুখ ও হাতের সাহায্যে অন্য মানুষ নিরাপদে থাকে। বোখারী ও মুসলিম শরীফ )

আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যে, দাড়ি, জুব্বা ও টুপি পরো। কারণ এটা রাসূল পাক সঃ এর সুন্নত। আসুন একটু নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে সূক্ষ্মভাবে বিচার বিশ্লেষণ করি। তৎকালীন আরব সমাজ ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন, বর্বর ও নিষ্ঠুর। সেখানে খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি, মারামারি, লুটপাত ইত্যাদি অপরাধ ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। নারীদের নূন্যতম সামাজিক মর্যাদা ছিল না। একজন গর্ভবতী নারী রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে আর দুইজন বন্ধু মিলে আড্ডা দিচ্ছে। এক বন্ধু বলল এই মেয়ের পেটে ছেলে সন্তান হবে এবং অন্য বন্ধু বলল মেয়ে সন্তান হবে। তখন দুই বন্ধু মিলে মেয়েটির পেট কেটে পরীক্ষা করল ছেলে নাকি মেয়ে। এইরকম অরাজকতা ভয়াবহতা ছিল আরব সমাজে। ঠিক তখনই মহান আল্লাহ তায়ালা তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু হযরত রাসূল পাক (সঃ) কে সমস্ত সৃষ্টি জগতের রহমত হিসাবে আরব সমাজ প্রেরণ করলেন। যাতে এই অসভ্য আরব জাতিকে রহমত দিয়ে হেদায়েত অর্থাৎ সঠিক পথে আনতে পারে। রাসূল পাক (সঃ) ছিলেন আল্লাহর সমস্ত গুণে গুণাবলীতে পরিপূর্ণ বিকশিত। রাসূল পাক (সঃ) তাঁর সমস্ত মানবিক গুনাবলী দিয়ে এই বর্বর আরব জাতিকে পরিবর্তন করার জন্য মনোনিবেশ করলেন। রাসূল পাক (সঃ) ছিলেন সত্যের মূর্ত প্রতীক। এই জন্য আরব সমাজের সবাই রাসূলকে আলামিন (সত্যবাদী) বলে ডাকত। এভাবেই রাসূল পাক সঃ তাঁর মানবিক চরিত্র গুণাবলি দ্বারা আরবের অসভ্য বর্বর হিংস্র জাতিকে সুসভ্য মানবজাতিতে রুপান্তরিত করলেন। তৎকালীন আরব সমাজের একটি মাত্র পোশাক ছিল ঢিলেঢালা জুব্বা। এটা ছিল তাদের শতশত বছরের জাতীয় পোশাক। তাই রাসূল পাক (সঃ) এসে সেই পোশাক পরিধান করলেন। এখন প্রশ্ন জাগে, জুব্বা যদি সুন্নত হয়, তাহলে রাসূল পাক সঃ তৎকালীন ইহুদি, খ্রীষ্টান, পৌত্তলিক, নাসারা বিধর্মীদের পোশাক ব্যবহার করলেন কেনো। এই জুব্বা তো আবু জেহেল, আবু লাহাব-সহ সকল মুশরিক বিধর্মীরা পরিধান করতো। তাহলে রাসূল পাক (সঃ) কি বিধর্মীদের নিকট থেকে পোশাক ধার করে আমাদের মুসলিম সমাজে দিয়ে গেলেন নাকি। কারণ এই জুব্বা রাসূল পাক সঃ জন্মের আগে থেকেই বিধর্মীরা ব্যবহার করত। রাসূল পাক (সঃ) তো এসে পোশাক পরিবর্তন করেনি বরং সেই পোশাকে নিজেকে সমাজের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। তৎকালীন আরব সমাজের সকল বিধর্মীরা দাড়ি রাখত। এটা ছিল আরব সমাজের পুরুষদের সামাজিক ঐতিহ্য। তাছাড়া তখন সেভ করার মতো আধুনিক কোন যন্ত্রপাতি ছিল না। তখনকার প্রতিটি পুরুষের মুখে দাড়ি ছিলো। আবু জেহেল, আবু লাহাব-সহ সকল বিধর্মীদের মুখে দাড়ি ছিলো। তাই রাসূল পাক সঃ সামাজিক পরিস্থিতির সম্মুখে নিজেও দাড়ি রাখতেন। এটা তো বিধর্মীদের সামাজিক ঐতিহ্য, তাই এটা কিভাবে সুন্নত হতে পারে। মরুভূমি আরব সমাজে প্রচন্ড গরম ছিল। তাই তৎকালীন সকল বিধর্মীরা রোদ থেকে একটু বাঁচার জন্য পাগড়ী ব্যবহার করত। এখনো সৌদি আরবের দিকে লক্ষ্য করুন সেখানে প্রচন্ড গরম এবং প্রচন্ড শীত। তাই আবু জেহেল, আবু লাহাব-সহ সকল বিধর্মীরা রোদ এবং শীত থেকে বাঁচার জন্য পাগড়ী ব্যবহার করতো। তাহলে এটা কিভাবে মুসলিম সমাজের সুন্নত হতে পারে। সর্বোপরী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, দাড়ি, জুব্বা ও পাগড়ি ছিল তৎকালীন কাফের মুশরিকদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক পোশাক। যা শতশত বছর ধরে আরব সমাজে প্রচলন ছিল। রাসূল পাক সঃ যেহেতু আরব সমাজে জন্মগ্রহণ করেন, তাই সেই সমাজের পোশাকই পরিধান করতেন। রাসূল পাক (সঃ) কিন্তু একবারও বলেন নি এগুলো কাফের মুশরিকদের পোশাক, তাই এগুলো ব্যবহার করা যাবে না। রাসূল পাক (সঃ) তাঁর সাহাবিদেরকে কখনো বলেননি, জুব্বা ও পাগড়ি কাফের মুশরিকরা পরিধান করে তাই এগুলো ব্যবহার করা যাবে না। আবার তাঁর সাহাবিদেরকে বলেন নি, যেহেতু কাফের মুশরিকরা দাড়ি রাখে তাই তোমরা কেউ দাড়ি রাখবে না। বরং রাসূল পাক সঃ জন্মের আগে থেকেই তাঁর প্রিয় সাহাবীরা দাড়ি, জুব্বা ও পাগড়ি পরিধান করত। তাহলে কি রাসূল পাক সঃ কাফের মুশরিকদেরকে কাছ থেকে ধার করে মুসলিম সমাজের মাঝে সুন্নত পোশাক রেখে গেলেন। ( নাউজুবিল্লাহ )। নিশ্চয় তাই নয় বরং রাসূল পাক (সঃ) তাঁর সর্বোত্তম মানবিক গুণাবলীর চরিত্রকে মুসলিম সমাজের মধ্যে রেখে গেলেন। লেবাস কখনো ধর্মের প্রতীক হতে পারে না বরং রাসূল পাক (সঃ) চরিত্র হল ধর্মের মূর্ত প্রতীক। রাসূল পাক (সঃ) লেবাস দিয়ে আরব সমাজ পরিবর্তন করেনি বরং তাঁর মানবিক চরিত্র দিয়ে আরব সমাজকে আমূল পরিবর্তন করে গেছেন। এই জন্য রাসূল পাক সঃ বলেন, তোমরা আল্লাহর চরিত্রে চরিত্রবান হও। রাসূল পাক (সঃ) কখনো বলেন নি, হে আমার উম্মতরা তোমরা দাড়ি, জুব্বা ও পাগড়ি পরিধান করো। তাহলে সেটা হাস্যকর দেখা যেতো। কারণ এগুলো আগে থেকেই কাফের মুশরিকরা পরিধান করত। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে কোথাও বলেনি, তোমরা দাড়ি রাখ, জুব্বা ও পাগড়ি পরিধান কর। কোথাও উল্লেখ নাই দাড়ি, জুব্বা ও পাগড়ি পরিধান না করলে আমি শাস্তুি দিব।আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি মানুষের অন্তরসমূহ দেখি। আমি পাপ পূণ্যের হিসাব নিবো। দাড়ি, জুব্বা ও পাগড়ির হিসাব নেওয়া হবে বা এই লেবাস না পরলে গুনাহ হবে এমন কোন আয়াত কেউ দেখাইতে পারবেন? অথচ আমাদের সমাজের ইয়াজিদি-মোল্লারা রাসূল পাক (সঃ) এর চরিত্রের কথা না বলে শুধু দাড়ি, জুব্বা ও পাগড়ির উপর বয়ান করে এবং এইগুলে পরিধান করতে জোরালোভাবে শিক্ষা দেন। কাফের এজিদেরও কিন্তু দাড়ি, জুব্বা ও পাগড়ি ছিল। কিন্তু তার কাছে রাসূল পাক (সঃ) এর চরিত্র ছিল না। এই জন্য প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় মাদ্রাসা ও মসজিদের ভিতর বলাৎকার ও ধর্ষণের সচিত্র। আর সৌদি আরবের লোকজন আমাদের মা বোনদের ঘরের কাজের কথা বলে নিয়ে প্রতিনিয়ত বাপ ছেলে মিলে ধর্ষণ করছে। কিন্তু তাদের সবার মুখে দাড়ি, শরীরে জুব্বা ও পাগড়ি পরিধান করা থাকে। রাসুল পাক (সাঃ) এর সেই সর্বেোত্তম সুন্নত হারিয়ে আমরা লেবাসধারী ইয়াজিদী মুসলমান হয়ে গেছি। এই জন্য আমাদের সমাজে এত অশান্তি ও কলহ বিরাজ করছে।

আল্লাহ আমাদেরকে প্রকৃত মুসলিম হওয়ার নিষ্ঠা ও তাওফিক দান করুন।





Enter


Original message:

No comments:

Post a Comment

ডিপ্রেশন কী?

  ডিপ্রেশন কী? উত্তরঃ তুমি এবং তোমার স্রষ্টার মধ্যকার দুরত্বের নামই হল ডিপ্রেশন। খাদিজা(রা:) খুব ধনী ঘরের মেয়ে ছিলেন। বিলাসিতার মধ্যেই বড় হও...