মুমিন ও মোনাফিক সাহাবী এবং তাদের যাচাইয়ের মানদন্ডঃ পর্ব-০১
-----------------------------------------------------
সাহাবী, যাদের অন্তরে ঈমান নেই:
*****************************
১) পবিত্র কোরআনঃ
★ আরববাসীরা বলে, আমরা ঈমান এনেছি। (হে রাসুল!) আপনি বলুন, তোমরা ঈমান আনোনি, বরং তোমরা বলো যে, আমরা ইসলাম গ্রহন করেছি। কারণ ঈমান এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি।
[৪৯, সুরা হুজরাত : আয়াত ১৪।]
★ এরা ইসলাম গ্রহন করে আপনার উপর দয়া করেছে বলে মনে করে। আপনি বলুন, তোমরা ইসলাম গ্রহন করে আমার উপকার করেছো বলে মনে করো না। বরং তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো, তাহলে (তোমাদের বুঝা উচিত যে) আল্লাহই ঈমানের দিকে হেদায়েত করে তোমাদের ধন্য করেছেন।
[৪৯, সুরা হুজরাত : আয়াত ১৭।]
পর্যালোচনা:
**********
সুরা হুজরাত নাযিল হয় নবম হিজরীতে। রাসুল (সাঃ)-এর ওফাতের মাত্র দেড়-বছর পূর্বে। আর মক্কা বিজয়ের এক বছর পরে।
মক্কা বিজয়ের সময় ও এর ঠিক পরপর যাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছিল, তারা ইসলামে প্রবেশ করলেন। মক্কা বিজয়ের পর সাধারণ ক্ষমা পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করা সাহাবাদেরকে হাদিসের ভাষায় তুলাকা বলা হয়। রাসুল (সাঃ)-এর বিরুদ্ধে সংগঠিত সকল যুদ্ধের প্রধান মদদদাতা আবু সুফিয়ান, তার পুত্র মুয়াবিয়া ও তার স্ত্রী (শহীদ মহাবীর হামযার কলিজা-ভক্ষনকারী) হিন্দাও এসময় তুলাকা হিসাবে ইসলাম গ্রহন করে।
তাদের অনেকেই নিজেদের সামাজিক অবস্থান, প্রতিপত্তি, মান-সম্মান এবং জীবন বাঁচাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাও বাধ্য হয়ে। তারা বুঝতেই পারেন নি, মুহাম্মদ সা. এতো সহজে মক্কা জয় করে ফেলবেন। তারা কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই মক্কা জয় হয়ে যায়, ফলে তারা দিশেহারা হয়ে যায়।
কেউ কেউ মক্কা ছেড়ে অন্যত্র পালাতে শুরু করে, কেউ কা’বার গিলাফ ধরে আত্মরক্ষা করতে থাকেন, কেউ রাতের আঁধারে সম্ভ্রান্ত ও আত্মীয় সাহাবাদেরকে মাধ্যম ধরে পুরনো আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে নবীজীর কাছে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। দয়ার সাগর রাসুল (সাঃ) তাদেরকে একে একে ক্ষমা করে দেন।
এই তুলাকা সাহাবাদের একজন হাকাম ইবনে আবুল আস ইবনে উমাইয়া প্রায়ই নবীজীর সাথে বেয়াদবি করতো। ফলে নবীজী হাকামকে তার ছেলে মারওয়ানসহ মদিনা থেকে তায়েফে নির্বাসন দেন। হযরত উসমান তার শাসনামলে মারওয়ানকে মদীনায় নিয়ে আসেন এবং তাকে নিজের কন্যা-জামাই ও খেলাফতের সেক্রেটারী করেন। কুখ্যাত এই মারওয়ানের কারনে হযরত উসমানের পতন ঘটে।
সুরা হুজরাতের আয়াতদ্বয়ের বর্ণনানুযায়ী যেহেতু তারা ইসলাম গ্রহন করেছে, সেহেতু তারা সাহাবী। কিন্তু তাদের অন্তরে ঈমান নেই। উপরন্তু তারা ইসলাম গ্রহন করে রাসুল (সাঃ)-কে দয়া করেছে মনে করে। কি নির্বোধ! কি আহম্মক তারা!
ইসলামের স্বার্থে তাদেরকে চেনা জরুরি। কারণ ঈমানহীন এসব সাহাবীদের কাছ থেকে ইসলাম নেওয়া নিরাপদ নয়। তাদের বর্ণিত হাদিস তাই গ্রহনযোগ্য নয়। কারণ ঈমানের স্বরূপ কি তা তারা জানতো না।
২) পবিত্র কোরআন:
★ হে রাসুল! দুঃখ করো না তাদের জন্য, যারা কুফরির পথে খুব এগিয়ে চলেছে, যারা মুখে বলে ঈমান এনেছি, কিন্তু তাদের দিল ঈমান আনেনি।
[০৫, সুরা মায়িদা: আয়াত ৪১।]
পর্যালোচনা:
***********
মুখে ঈমান-আনা সাহাবীগণ অন্তরে ঈমান আনা তো দূরের কথা, বরং জাহেলিয়াতের দিকে, কুফরির দিকে জোরদার ভাবে এগিয়ে চলেছিল। তাও রাসুল সাঃ এর জীবদ্দশায়!
আল্লাহ রাসুল সাঃ কে সে তথ্য জানিয়ে দিলেন এ আয়াতের মাধ্যমে।
সুতরাং এদেরকেও চেনা জরুরি। কারণ রাসুল (সাঃ)-এর ওফাত পরবর্তী সকল ফেতনার জন্য মুলত এরাই দায়ী।
৩) হাদিসঃ
★ আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের উপর উঠলেন এবং উচ্চস্বরে ডেকে বললেনঃ ‘‘হে মুসলিমগণ! যারা মুখে ইসলাম গ্রহণ করেছ এবং অন্তরে ইসলামের প্রভাব রাখোনি, তোমরা মুসলিমদেরকে কষ্ট দিয়ো না, তাদেরকে লজ্জা দিয়ো না এবং তাদের দোষ অন্বেষণ করো না।
[হাসান সহীহ : তিরমিযী (বা ই সে), ৩য় খন্ড, ১৯৮১; সহীহ আত্ তারগীব ২৩৩৯, গয়াতুল মারাম ৪২০, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৭৬৩, আহমাদ ১৯৭৭৬, শু‘আবুল ঈমান ৬৭০৪, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১১২৮১, তা’লীকুর রাগীব (৩/২৭৭); মেশকাত (এমদাদিয়া), ৯ম খন্ড, ৪৮২৩।]
★ আবূ বারযা আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে জনগণ! তোমরা যারা মুখে মুখে ঈমান এনেছ, কিন্তু অন্তরে এখনও ঈমান প্রবেশ করেনি, তোমরা মুসলিমদের গীবত করো না এবং তাদের ইযযাতও নষ্ট করো না।
[আবু দাউদ (ইঃ ফাঃ বাঃ), ৪৮০২।]
পর্যালোচনাঃ
***********
এই সব মুখে ঈমান-আনা সাহাবীর দল প্রকৃত সাহাবীদেরকে নানা উপায়ে কষ্ট দিত।
এরা ইসলামের দুশমন। সুতরাং ইসলামের স্বার্থে এদের চেনাটা অতীব জরুরি।
এই সব মুখে ঈমান-আনা সাহাবীদের উদ্দেশ্যেই রাসুল সাঃ বলেছেন:
★ রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সে সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা ঈমান আনো।
[মুসলিম(ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১); মুসলিম(ইসলামিক সেন্টারঃ ১০৩); মুসলিম (হাঃ একাডেমিঃ ৯৯)।]
No comments:
Post a Comment