Tuesday, August 9, 2022

কারবালা পর্ব : ০৭ ( কারবালা সংশ্লিষ্ট )

 কারবালা সংশ্লিষ্ট

***************

★ কোরআনের আয়াতঃ
"আর যে ইচ্ছাকৃত কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হচ্ছে জাহান্নাম, সে সেখানে স্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ হবেন, তাকে লানত করবেন এবং তার জন্য বিশাল আযাব প্রস্তুত করে রাখবেন।"
[সূরা নিসা, আয়াতঃ ৯৩]
ইয়াজিদ এবং তার পক্ষের সকলের উপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক!
★ কারবালা-র চরম হৃদয় বিদারক ঘটনার পরেও সাহাবী(!) আবদুল্লাহ ইবনু উমার-এর মধ্যে কোনো ভাবান্তর হয়নি।
তখনও তার ইমাম ইয়াজিদ। বরং যাতে কেউ ইয়াজিদের বায়াত ফিরিয়ে না দেয়, তিনি তখনও সে চেষ্টায় রত ছিলেন।
আবদুল্লাহ ইবনু উমার-এর মতো অনেক সাহাবী তখনও ইয়াজিদের পক্ষে বিভোর।
দুনিয়াবী স্বার্থের কি ভয়াবহ চিত্র!
আবদুল্লাহ ইবনু উমারের উক্ত বিষয়ে একটি হাদিসঃ
*************
★ মুসলিম (বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার), হাদিস নম্বর ৪৬৪২।
নাফি' (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
ইয়াজিদ ইবনে মুআবিয়ার রাজত্বকালে যখন (মদীনার) হাররার দুর্ঘটনা ঘটলো, সে সময় আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মুতী (রাযিঃ) এর নিকট গেলেন। তখন ইবনু মুতী (লোকদের) বললেন, আবূ আবদুর রহমানের জন্য একটি বালিশ নিয়ে আসো। তখন ইবনে উমার বললেন, আমি আপনার কাছে বসার জন্য আসিনি। বরং একটি হাদিস বর্ণনা করার উদ্দেশ্যেই এসেছি, যা আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের আনুগত্য থেকে দূরে সরে দাঁড়ায় (আনুগত্য তুলে নেয়), কিয়ামাতের দিন সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তার কাছে কোন সংগত প্রমাণ থাকবে না। আর যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা যায় যে, তার ঘাড়ে আনুগত্যের বাইআত নেই, সে জাহেলী মৃত্যুবরণ করলো।
[ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ৪৬৪০;।]
★ উক্ত হাদিসের [মুসলিম (বাইসে), ৪৬৪২] নীচে অনুবাদকের লেখা টিকাঃ
১) ৬৩ হিজরিতে ইয়াজিদের ১২ হাজার সৈন্য সিরিয়ায় মুসলিম ইবনে উকবার নেতৃত্বে মদীনার অনতিদূরে 'হাররা' নামক স্থানে শিবির স্থাপন করে এবং মদীনা আক্রমণ করে অনেক লোক শহীদ করে এবং লুঠতরাজ করে এক বিভীষিকা সৃষ্টি করে। ইসলামের ইতিহাসে ইয়াজিদের এটা আর এক কলংকময় ঘটনা।
২) মদীনাবাসীরা ইয়াজিদের থেকে তাদের আনুগত্য তুলে নেওয়ার পর আব্দুল্লাহ ইবনে মুতীকে নিজেদের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন। ইবনে উমার তাই তার কাছে গিয়ে হাদিস শুনিয়ে বললেন, যুলুমের দরুন ইমামের বাইআত তুলে নেওয়া যায় না।
হাররার ঘটনা: ইয়াজিদ কর্তৃক মদীনায় গণহত্যা, লুঠতরাজ ও গণধর্ষণ
**********************************
আজ হতে ১৩৭০ বছর আগে কারবালার মহা-ট্র্যাজেডির দুই বছরেরও কম সময় পর ৬৩ হিজরির ২৮ জ্বিলহজ্ব ইয়াজিদের বাহিনী মদীনায় মসজিদে নববী ও রাসূল (সা.)’র রওজার অবমাননাসহ গণহত্যা এবং গণ-ধর্ষণের মত নানা মহা-অপরাধযজ্ঞে লিপ্ত হয়।
ইয়াজিদের নর-পশু সেনারা পরে মক্কায়ও হামলা চালিয়ে পবিত্র কাবা ঘর ধ্বংস করেছিল।
নরপশু ইয়াজিদের নির্দেশে কুফায় নিযুক্ত তার গভর্নরের অনুগত সেনাদের হাতে বিশ্বনবী (সা.)’র প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন ও তাঁর পরিবার-পরিজনসহ প্রায় ১০০ জন সঙ্গীর বেশিরভাগেরই কারবালায় শাহাদত বরণ করার হৃদয়বিদারক এবং মহাবিয়োগান্তক ঘটনার খবর শুনে মদীনাবাসী ইয়াজিদের চরিত্র ও প্রকৃতি সম্পর্কে তদন্ত চালায়।
তারা এ লক্ষ্যে দামেস্কে একটি তদন্ত-টিম পাঠায়। তদন্ত-টিম ইয়াজিদকে ইসলামী মূল্যবোধ-শূন্য ও একজন নৈতিক চরিত্রহীন ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখতে পায়। ইমাম হোসাইন এবং তাঁর মহান বিপ্লব ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের সহযোগিতা করতে না পারার জন্য মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে গণ-অনুশোচনা ক্রমেই জোরদার হতে থাকে।
এ অবস্থায় মদীনাবাসী তাদের শহর থেকে ইয়াজিদের নিযুক্ত গভর্নরকে বের করে দেয় এবং ইয়াজিদের অনৈসলামী শাসনকে বৈধ শাসন হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করে। ফলে ইয়াজিদ সিরিয়া থেকে কুখ্যাত মুসলিম বিন উকবার নেতৃত্বে ১০ হাজার সেনা পাঠায়। হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফও ছিল এই সেনাবাহিনীর এক সাধারণ সেনা।
উকবা মদীনার উত্তর-পূর্ব দিকে হাররা অঞ্চলে মদীনার প্রতিরোধকামীদের ওপর হামলা চালায়। অস্ত্রে সুসজ্জিত উমাইয়ারা (মুয়াবিয়া ও ইয়াজিদের বংশের লোক) বিপুল সংখ্যক মুজাহিদকে হত্যার পর শহরের ভেতরেও প্রতিরোধ-কর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়ে তাদের শহীদ করে।
এমনকি যারা বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ(সা.)’র পবিত্র মসজিদে ও তাঁর পবিত্র মাজার বা রওজায় আশ্রয় নিয়েছিল তাদেরকেও নির্মমভাবে শহীদ করেছিল ইয়াজিদের পাষণ্ড সেনারা। বিশ্বনবী (সা.)’র বহু সাহাবীসহ ৭০০ জন গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব শহীদ হয় তাদের হামলায়। ইয়াজিদের সেনারা মদীনায় অন্তত ১০ হাজার মানুষকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে।
এরপর উকবার নির্দেশে তার নেতৃত্বাধীন ইয়াজিদের সেনারা তিন দিন ধরে মদীনা লুট-তরাজ করে এবং নারীদের সম্ভ্রমহানি করে। তারা মদিনার মসজিদে নববীকে ঘোড়ার আস্তাবল বানায় এবং ঘোড়ার মলমূত্রে অবমাননা করা হয় মুসলিম বিশ্বের পবিত্রতম এই স্থানের। এরপর এই অভিশপ্ত সেনাদল মক্কার দিকে যায় এবং এমনকি পবিত্র কাবা ঘরেও হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছিল।
মদীনায় নারীদের ওপর ইয়াজিদ-সেনাদের গণ-ধর্ষণ বা পালাক্রমিক ধর্ষণের পরিণতিতে এক হাজারেরও বেশি অবৈধ সন্তান জন্ম নিয়েছিল এবং তাদের বাবা কে ছিল তা সনাক্ত করার কোনো উপায় ছিল না। ইতিহাসে এদেরকে ‘হাররা বিদ্রোহের সন্তান’ বলে উল্লেখ করা হত।
হাররার যুদ্ধ বা হাররার গণহত্যা নামে পরিচিত এই ঘটনা বহু বছর ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মধ্যে স্মরণ করা হয়েছে। অনেকেই বলেন এইসব অবৈধ সন্তান ও তাদের পিতামাতাদের অজুহাত দেখিয়েই বিতর্কিত ওয়াহাবী মতবাদের পক্ষে, বিশেষ করে কবর-জিয়ারত এবং মৃতের জন্য দোয়া ও কুরআনের সুরা পড়া নিষিদ্ধের যুক্তি দেখানো হয় ।
উল্লেখ্য, ইয়াজিদ মক্কা ও কাবা ঘরে হামলার ঘটনার পর পরই মারা যায়।
অনেকের মনেই এ প্রশ্ন জাগে যে ৬৩ হিজরির মধ্যেই মুসলমানদের এত দুর্দশা কেন ঘটেছিল? মুসলমানদের মধ্যে কি মুনাফিকদের প্রাধান্য বৃদ্ধি পেয়েছিল?
বলা হয়ে থাকে, কারবালায় ইমাম হোসাইন ও তার মহান সঙ্গীরা যখন শাহাদত বরণ করেন তখন ইয়াজিদ খুশি হয়ে একটি কবিতা আবৃত্তি করেছিল যেখানে সে স্পষ্টভাবে এটা উল্লেখ করে যে " হোসাইনকে হত্যার মাধ্যমে আমরা উমাইয়ারা মুহাম্মাদকেই হত্যা করেছি এবং বদর, উহুদ ও খন্দকের প্রতিশোধ নিয়েছি।"
আসলে বনি উমাইয়াদের অনেকেই কেবল মুখে মুখে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। বিভিন্ন জিহাদে, বিশেষ করে বদর, উহুদ ও খন্দকে আমিরুল মুমিনিন হযরত আলীর হাতে তৎকালীন কাফিরদের বড় বড় ব্যক্তিত্বরা নিহত হওয়ায় এবং তাদের অনেকেই বনি উমাইয়া গোত্রের লোক ছিল বলে সেই বংশীয় বা গোত্রীয় ক্ষোভ তাদের মধ্যে সুপ্ত ছিল।
উমাইয়াদের অনেকেই বা বেশিরভাগই মক্কা বিজয়ের পর বাধ্য হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। আবু সুফিয়ানসহ অনেক উমাইয়া ব্যক্তিত্ব ইসলামের সঙ্গে শত্রুতায় সবচেয়ে অগ্রণী ছিল। তাই তারা ভেতর থেকেই ইসলামের ওপর আঘাত হানার দীর্ঘ মেয়াদী ষড়যন্ত্র করে, যাতে এক সময় মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব তাদের হাতেই চলে আসে।
অনেক ইসলামী বর্ণনায় এসেছে, এক সময় মহানবী (সা.) স্বপ্নে দেখেন যে, বনী উমাইয়া তাঁর মিম্বরে বানরের মত নাচানাচি করছে। এ স্বপ্ন দেখে তিনি এমনই শোকাহত হলেন যে, এরপর যতদিন বেঁচে ছিলেন তিনি আর হাসেননি। তাঁর এই স্বপ্ন দেখার পর পবিত্র কুরআনের সুরা বনি ইসরাইলের ৬০ নম্বর আয়াত নাজেল হয়েছিল। ওই আয়াতে বলা হয়েছে:
“এবং (স্মরণ কর) যখন আমরা তোমাকে বলেছিলাম যে, নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক মানুষকে পরিবেষ্টন করে আছেন এবং আমরা তোমাকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলাম তা কেবল মানুষের জন্য পরীক্ষার মাধ্যম ছিল এবং কুরআনে বর্ণিত অভিশপ্ত বৃক্ষটিও। আমরা মানুষকে ভীতি প্রদর্শন করতে থাকি, কিন্তু তা তাদের চরম ঔদ্ধত্যকেই কেবল বৃদ্ধি করে।”
তাফসিরে তাবারিসহ কয়েকটি সুন্নি সূত্রমতে, কুরআনে উল্লিখিত ওই “অভিশপ্ত বৃক্ষ” বলতে আবু সুফিয়ানের বংশধর তথা উমাইয়াদের বোঝানো হয়েছে এবং রাসূল (সা.) স্বপ্নে তাঁর মিম্বরে বানরদের নাচানাচির যে ঘটনাটি দেখেছিলেন তার অর্থ উমাইয়াদের মাধ্যমে খেলাফত দখল হবে। (সুত্র: ইন্টারনেট)
You, Md Golam Kibria and 2 others

No comments:

Post a Comment

ডিপ্রেশন কী?

  ডিপ্রেশন কী? উত্তরঃ তুমি এবং তোমার স্রষ্টার মধ্যকার দুরত্বের নামই হল ডিপ্রেশন। খাদিজা(রা:) খুব ধনী ঘরের মেয়ে ছিলেন। বিলাসিতার মধ্যেই বড় হও...